বিটিআরসি’র সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:০২  
মুনাফা নিশ্চিত করতে টেলিকম অপারেটরদের ব্যায়পরিকল্পনা অনুমোদন পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। ট্যারিফ নির্ধারণের মতো বার্ষিক ব্যয় পরিকল্পনা অনুমোদন না থাকার কারণেই গত ১৫ বছরেও বাংলালিংক লাভের মুখ দেখেনি বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার ডিজিবাংলা-কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মতো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো না হলে এই খাতটিতে অসন্তোষ বাড়বে। তিনি বলেন, আমাদের দেশেই জ্বালানি খাতে ব্যবসায়রত কোম্পানিগুলোকে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন থেকে বেতন-বোনাস ব্যায় পরিকল্পনার হিসাব ও অনুমোদন নিতে হয়। অথচ টেলিকম খাতে এই নিয়ম নেই। ফলে তারা বিলাস বহুল জীবন করেন। আর আর্থিক বছর শেষে যে হিসাব দেখান সেখানে লাভের বদলে লোকসান দেখাতে পারেন। কিন্তু এই খাতটিতেও যদি ব্যায়ের জবাদিহীতা নিশ্চিত করা যেত তারলে লোকসান হতো না। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলালিংক জন্মের পর থেকে আজ অবধি লোকসান দেখাচ্ছে। যা বিশ্বে বিরল। কোন বিদেশী কোম্পানী দূরে থাক, কোন সরকারও ১৫ বছর ধরে কোন প্রতিষ্ঠান লোকসানে চালাবে না। তারা কিন্তু চালাচ্ছে। লাভ আছে বলেই চালাতে পারছে। দীর্ঘ ১৫ বছরেও বাংলালিংকের হিসাব নীরিক্ষা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অডিট করলে সেই অডিট বাংলালিংক মানবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে। একটি স্বাধীন কমিশনের উপর সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি গ্রাহকরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। টেলিকম খাতের বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই যদি হয় অবস্থা; তাহলে প্রশ্ন দেশীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিটিসেল, ওয়ানটেল, র‌্যাংগসটেল, ঢাকা ফোন, সেবা ফোন বন্ধ হল কেন? গ্রাহকদেরও কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল এসকল প্রতিষ্ঠানে। গ্রামীনফোন ও রবি’র পাওনা নিষ্পত্তির প্রসঙ্গ টেনে মহিউদ্দিন বলেন, ট্যারিফ নির্ধারণে সরকার ও কোম্পানীগুলোর প্রস্তাব কমিশনে নিষ্পত্তি করার কথা। অথচ এক্ষেত্রে ট্যারিফ নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয় আর প্রস্তাব করে কমিশন। টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থাকার পরও একটি স্বাধীন কমিশন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল কিনা তা আজ প্রশ্ন আসতেই পারে।